18/09/2026
ছোট গল্প-
জামাই মিয়া
রানা বিন আবু সাঈদ
পর্ব - 01
: কি নাম
: জামাই মিয়া স্যার। সালাম বিনিময় করে বললেন।
: জামাই মিয়া নামটি শুনে জামান সাহেবের কপাল ভাজ করে তার দিকে তাকালেন।
জামান সাহেব একজন সৎ সমাজ সেবক আদর্শবান এবং ইসলামিক পথের ব্যাবসায়ী। ছোটবেলা থেকেই পরিবার সহ ঢাকায় বসবাস করেন। তার এলাকাতেই তাহার অনেক সুনাম আছে। তার নাতনী জাইফা রহমান কে কলেজে যাওয়া-আসার জন্য একজন দক্ষ ও নামাজি ড্রাইভার প্রয়োজন। তাই জামান সাহেব বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। জামান সাহেব ড্রাইভারের মুখে তার নাম শুনে বললেন-
: এটা কোন নাম হলো।
: না স্যার এটা আমার নাম না। আমার আসল না, হলো জামাল মিয়া।
: তা হলে যে বললে জামাই মিয়া।
: ছেলেটা হাসতে হাসতে বললো-
স্যার আমার নাম জামাল মিয়া কিন্তু পারার লোকে বলে জামাইল্লা, আবার কেহ বলে জামালু, আবার কেহ বলে জাইল্লা, স্যার আমার নামের এমন অবস্থা করছে এখন আমার নাম আমিই চিনিনা। আমার নামটারে ভাংতে ভাংতে জা মা ল এই অক্ষর কোনটাই ঠিক রাখে নাই। তাই স্যার আমি আমার নামের ল বাদ দিয়ে ই বসিয়ে দিয়েছি। এখন আমার নাম জামাল এর পরিবর্তে জামাই মিয়া হয়ে গেছে।
ছেলেটার মুখে তার নামের বিবরন শুনে জামান সাহেব খিল খিল করে হেসে উঠলেনর। ছেলেটার মায়াবী মুখের মুচকি হাসির দিকে তাকিয়ে জামান সাহেব দেখলেন তার চেহারায় অনেক মায়া কাজ করে।কি সুন্দর চেহারার একটা ছেলে। কথার মাঝে মুখে হাসি লেগেই থাকে। প্রতিটা কাথার মাঝে লুকিয়ে আছে যাদু ও মায়াবী হাসি।যেমন দেখতে তেমন সুদশন পুরুষ। মনে হয় যেন এক রাজকুমার। জামান সাহেবের অনেক ভাল লেগেছে তাই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আবার জামান সাহেব বললেন,
: তুমি কি জান আমার এখানে কি কাজ করতে হবে।
: জ্বী স্যার জানি, আপনার নাতনীর গাড়ির ড্রাইভার।
: আচ্ছা ঠিক আছে, তবে লেখা পড়া করেছ কতটুকু।
: স্যার বেশী একটা লেখা পড়া করতে পারি নাই। কোন রকম টাইনা-মাইনা অষ্টম ক্লাশ পাস করেছি। তারপর স্যার ড্রাইভারি কাজ শিখেছি।
জামান সাহেব তার কথার শুনে তার ভাবভঙ্গি দেখে আরো মায়ায় পড়ে গেলেন। জামান সাহেব নিজে নিজে ভাবলেন, এ রকম একজন ড্রাইভার আমার দরকার।
: তা বাচা কত দিন যাবৎ তুমি ড্রাইভারি কাজ কর।
: স্যার আমি মোটামুটি আট বছর হয় ড্রাভারি কাজ করি।
: আচ্ছা ঠিক আছে তা হলে তোমাকে ড্রাইভারি পরীক্ষা দিতে হবে।
ঠিক আছে স্যার, আমি রাজি।
জামান সাহেব তার ম্যানাজারের সাথে জামাই মিয়াকে পাঠালেন ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্যা। ড্রাইভার কাজে তার দক্ষকতটুকু তা জানার জন্য। কিছু সময় পর তার ম্যানাজর ও জামাই মিয়া ফিরে আসলেন।
: ম্যানাজার বলল, স্যার আসতে পারি।
জামান সাহেব মাথা নিচু করে কাজ করতেছিলেন। মাথা উচু করতেই দেখে তারা দ’জন। জামান সাহেব বলেলন,
: ও আসো আসো ভিতরে আসো। তো ম্যনাজার সাহেব বলেন জামাই মিয়ার কি অবস্থা। কেমন দেখলেন তার গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা।
ম্যানাজার মুচকি হেসে বললেন, স্যার এরকম ড্রাইভার আমি কখনো দেখি নাই। স্যার যেমন তার গাড়ি চালানোর হাত তেমন অভিজ্ঞতা এবং সব চেয়ে বড় কথা হলো তার ব্যাবহার অনেক সুন্দর স্যার। সে পারবে আমাদের এখানে চাকুরী করতে, অনেক ভাল ও বুদ্ধিমতি অনেক সুদশন।
ম্যানাজারের কথা শুনে জামান সাহেব মনস্থির করতে পারলেন এবং ম্যনাজারের মুখে তার প্রশংসা শুনে জামান সাহেব অনেক খুশি হলেন। মনে মনে ভাবলেন যেমন ড্রাইভার চেয়েছিলাম তেমন মনে হয় পেয়েছি। যাক বাকীটা আল্লাহ পাকের ইচ্ছা।
জামান সাহের ড্রাইভার জামাই মিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে আবারো বললেন
: জামাই মিয়া আমার এখানে চাকুরী করতে হলে তোমাকে পাঁচ ওয়াক্ত নাজাম আদায় করতে হবে এবং আমার বাসায় তোমাকে থাকতে হবে।
জামান সাহের মুখে নামাজ ও তার বাসায় থাকার কথা শুনে জামাই মিয়া অনেক খুশি হয়েছে, কারন তার ঢাকা শহরে থাকার কোন যায়গা নেই। মনে মনে ভাবলো এখন বুঝি থাকার একটা স্থান হলো। জামাই মিয়া জামান সাহেবের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
: স্যার আমাকে মাসিক বেতন দেন আর না দেন আমাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার সময় দিতে হবে। স্যার দুনিয়ার কাজ এক দিকে আর আমার নামাজ আরি এক দিকে। কাজের জন্যা আমি নামাজ ছাড়তে পারবো না। এই দুনিয়ায় আর থাকবো কতদিন। কাজের পাশাপাশি আখিরাতের সম্বল ও ছামানা তৈরী করতে হবে।
জামাই মিয়ার মুখে নামাজের কথা শুনে জামান সাহেব খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন। মনে মনে ভাবলেন এ যুগে এখনো এতো ভাল ছেলে আছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী, নম্র ও ভদ্র ব্যবহার, মুখে হাসি। দেখতে ও মাসাল্লা...
: জামাই মিয়ার দিকে তাকিয়ে জামান সাহেব বললেন
তোমার কথা কাজ ও ব্যবহার দেখে আমি মুগ্ধ। তোমার চাকুরী পাক্কা। কাল থেকে তুমি তোমার কাজে জয়েন করতে পারো। তবে মনে রেখ যত ঝড়তুফান আসুক নামাজ ছাড়বে না। আল্লাহ পাক কোরআন কারিমে বলছেন ”ওয়া লিল্লা-জিনা কাফারু –বিরাব্বিহিম আযা-বু যাহান্নাম, ওয়া-বি’ছাল মাসির” অথাৎ যারা তাদের পালন কর্তাকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্য রয়েছে যাহান্নামের শাস্তি। সেটা কতইনা নিকৃষ্ট স্থান।
: জ্বী স্যার, আমি জানি সকল গুনার মাফ আছে কিন্তু নামাজের কোন মাফ নাই। আমরা মুসলমান আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিদ আদায় করা ফরয।
: ঠিক আছে জামাই মিয়া আজ তা হলে এ পর্যন্ত, ম্যানাজারের দিকে তাকিয়ে জামান সাহেব বললেন কাল জামাই মিয়াকে নিয়ে আমার বাসায় আসবে। কাল থেকে ওর চাকুরী শুরু।
সবার কথা শেষ করে জামাই মিয়া জামান সাহেবকে সালাম দিয়ে চলে গেলেন
চলবে-----